ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্র ডেস্ক): মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মাঝে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও পরিবহন খাতকে সুরক্ষিত রাখতে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জাতীয় মজুত সক্ষমতা আগামী ৯০ দিনের বাফার স্টকে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড যৌথভাবে এই বর্ধিত স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
বর্তমানে দেশে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ দিনের ডিজেল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের মজুত সক্ষমতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন হঠাৎ বিঘ্নিত হলে বা কোনো ভৌগোলিক সংকট দেখা দিলে এই পরিমাণ মজুত জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে অপ্রতুল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নতুন পরিকল্পনার অধীনে দেশের মূল টার্মিনালগুলোর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত রেল ও নদী যোগাযোগসংলগ্ন এলাকায় নতুন নতুন তেল ডিপো এবং স্বয়ংক্রিয় স্টোরেজ ট্যাংক স্থাপন করা হবে। এছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীতে সম্প্রতি স্থাপিত এসপিএম (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) ডিপোকে এই বাফার নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় ব্যাকবোন হিসেবে ব্যবহারের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কেবল নিজেদের ডিপো নির্মাণ নয়, জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান বেসরকারি বাণিজ্যিক অয়েল টার্মিনালগুলোর খালি ধারণক্ষমতা চুক্তির ভিত্তিতে ভাড়া নেওয়ারও বিকল্প বিবেচনা করছে সরকার। এর ফলে অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয়ের চাপ ছাড়া দ্রুততম সময়ে মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, একটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রাথমিক শর্তই হলো জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন নিশ্চয়তা। জাতীয় উৎপাদন, কৃষি সেচ ও বিদ্যুৎ খাত যাতে কোনো আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে হোঁচট না খায়, সেজন্য এই কৌশলগত জ্বালানি বাফার স্টক বাস্তবায়ন জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।





