ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্র ডেস্ক): বঙ্গোপসাগরের অগাধ সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, উপকূলীয় মৎস্যচাষের আধুনিকায়ন এবং সুনীল অর্থনীতির (ব্লু-ইকোনমি) অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম শীর্ষ সামুদ্রিক অর্থনীতির দেশ ইতালির সাথে নিবিড় সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালীয় প্রতিনিধিদলের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই কৌশলগত অংশীদারির ওপর বিশদ আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে টুনা ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পেলাজিক মাছ শিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জেলে ও ট্রলারগুলোর আধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। ইতালি এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ফিশিং বোট প্রযুক্তি, ডিপ-সি ট্র্যাকিং সেন্সর এবং জাহাজে স্থাপিত অন-বোর্ড প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কোল্ড-চেইন প্রযুক্তিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বৈঠকে বাংলাদেশি নাবিক ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের ইতালি থেকে উচ্চতর কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সামুদ্রিক শৈবাল ও ক্রাস্টাশিয়ান চাষে যৌথ গবেষণা প্রকল্প চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা এক ব্রিফিংয়ে জানান, বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাদ্য ইউরোপের বাজারে রপ্তানি করে। তবে আন্তর্জাতিক পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স ও ফাইটোস্যানিটারি মান বজায় রাখা দিন দিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। ইতালির সাথে যৌথ গবেষণা হলে বাংলাদেশের মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো ইউরোপীয় ট্রেসেবিলিটি মানদণ্ডে আরো দ্রুত উত্তীর্ণ হতে পারবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি আয়ের বহুমুখীকরণে ব্লু-ইকোনমি হতে পারে আগামী দশকের প্রধান চালিকাশক্তি। টেকসই সমুদ্র বিজ্ঞান চর্চা ও ইকো-ট্যুরিজম খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হলে এটি দেশের উপকূলীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের জন্য উভয় দেশ কাজ করছে।





