আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী শীর্ষ বৈশ্বিক সংস্থা মুডি'স ইনভেস্টরস সার্ভিস এবং স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) তাদের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী সার্বভৌম ঋণমানকে 'স্থিতিশীল' (Stable Outlook) হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির শর্তাবলী সফল বাস্তবায়ন এবং আর্থিক খাতের চলমান কাঠামোগত সংস্কারের স্বীকৃতি হিসেবে এই রেটিং বজায় রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণের ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (Current Account Balance) ইতিবাচক উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। একই সাথে জ্বালানি তেল ও এলএনজির বৈশ্বিক দাম সহনীয় মাত্রায় থাকায় আমদানি ব্যয়ের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং স্থিতিশীল থাকায় বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেড ক্রেডিট ও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে কম সুদে ঋণ প্রাপ্তি সহজ হবে। এটি বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের অনাদায়ী ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক কঠোর নীতি এবং রাজস্ব বোর্ডের ডিজিটাল ট্যাক্স নেট সম্প্রসারণের পদক্ষেপ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করবে।




