**ঢাকা:** দেশের রপ্তানি আয়ে একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই ভারসাম্য আনতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ওষুধ শিল্পের জন্য একটি সমন্বিত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই কাঠামোর আওতায় প্রস্তুতকারকদের জন্য স্বল্প সুদে বিশেষ রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল এবং কাঁচামাল আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উচ্চ সম্ভাবনাময় নন-আরএমজি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে আধুনিকায়ন করতে সহজ শর্তে মেয়াদি ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও কোয়ালিটি সার্টিফিকেশন অর্জনে ব্যয়ের একটি অংশ সরকারি তহবিল থেকে ভর্তুকি আকারে পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশি হালকা প্রকৌশল পণ্য ও মানসম্মত জেনেরিক ওষুধের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রণোদনা কাঠামোর ফলে আগামী দুই অর্থবছরে এই দুই খাত থেকে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রপ্তানি ঝুড়ি বহুমুখীকরণ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা সম্ভব নয়। তবে প্রণোদনার অর্থ যেন প্রকৃত উৎপাদনশীল ও রপ্তানিমুখী উদ্যোক্তারা সহজে পান, সেজন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

