দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতি অনুসারে বর্তমানে কার্যকর রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে দেশের প্রায় ৪ দশমিক ৮ মাসের সার্বিক আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ঘোষিত প্রণোদনা ও ডলারের একক বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর করার সুফল মিলছে। একই সাথে অনাবশ্যক বিলাসবহুল আমদানি নিয়ন্ত্রিত থাকায় বহির্বাণিজ্যের চলতি হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একই দিনে পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা পিএসডি সার্কুলার নম্বর ০৫-এর মাধ্যমে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) আন্তঃব্যবহারযোগ্য 'বাংলা কিউআর' নেটওয়ার্কের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ বা ওয়ালেট ব্যবহার করে যেকোনো মার্চেন্ট পয়েন্টে তাৎক্ষণিক কিউআর কোড স্ক্যান করে ক্যাশলেস পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তঃব্যাংক ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং কার্ব মার্কেটের সাথে আনুষ্ঠানিক দরের ব্যবধান এক শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ শক্তিশালী করা বর্তমান মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।




