চীন ও নেপাল সীমান্তে গত মাসে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট প্রাণঘাতী বন্যায় বৈক্সিক জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব ছিল বলে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) প্রকাশিত এক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, হিমালয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং পারমাফ্রস্টের ক্ষয় এই মানবিক বিপর্যয়কে অনিবার্য করে তুলেছিল।
গত ২৬ আগস্ট ল্যাংটাং লিরুং পাহাড়ের বিশাল অংশ ও বরফের স্তূপ ধসে পড়ে নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ প্লাবনের সৃষ্টি করে। এতে দুই দেশে ১ হাজার ৪৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং ৬ হাজার ৬৬০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হন। এছাড়া অবকাঠামো ও জনবসতির ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে নেপালের পুনর্নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭৮ কোটি ডলার।
গবেষণার সহ-লেখক ও ইউট্রেখ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ওয়াল্টার ইমারজিল এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফ্রিডরিখ ওটো জানান, ২০১৫ সালের ভূমিকম্প ও অতিরিক্ত উষ্ণায়নে পাহাড়ি ঢাল আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। স্বল্প কার্বন নিঃসরণকারী হিমালয়ান দেশগুলোর এ ধরনের মারাত্মক ক্ষতির বিষয়টি আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জরুরি এজেন্ডা হিসেবে উত্থাপন করবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।