জলবায়ু পরিবর্তনের চরম আঘাত থেকে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী জনপদকে সুরক্ষিত রাখতে প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে পরিচিত সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী জোরদারে একটি ব্যাপক বন পুনরুদ্ধার প্রকল্প সফলতার মুখ দেখেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় খুলনা ও বাগেরহাট রেঞ্জের উন্মুক্ত নদীচর ও ক্ষয়প্রবণ এলাকায় স্থানীয় বনজীবী কমিউনিটিকে সাথে নিয়ে এই পুনর্বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রকল্পের আওতায় প্রধানত মাটির ক্ষয়রোধকারী গভীর শিকড়যুক্ত কেওড়া, বাইন, সুন্দরী ও অর্থকরী গোলপাতার চারা রোপণ করা হয়েছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে জোয়ার-ভাটার কাদামাটিতে এসব বৃক্ষ স্বাভাবিক রূপ নিয়ে বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ বনে পরিণত হয়েছে, যা উপকূলীয় ঝড়ের তীব্র বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসের শক্তিকে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ৪০ শতাংশ দুর্বল করতে সক্ষম।
খুলনার দাকোপ উপজেলার বন সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সুজিত মন্ডল জানান, নতুন এই বনাঞ্চলে এখন বক, কাদাখোঁচা পাখি ও কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ শুরু হয়েছে। বনের আশপাশের নদীগুলোতে মাছের পোনার উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় জেলেদের জীবিকায় নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদরা বলছেন, সুন্দরবনের এই কমিউনিটি-ভিত্তিক ম্যানগ্রোভ মডেল বিশ্বের উপকূলীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুসরণের সুপারিশ করা হবে।



