ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্র ডেস্ক): দেশের দ্রুত বর্ধনশীল নগর ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিবেশদূষণ রোধ, নদী-খাল রক্ষা এবং টেকসই নাগরিক পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের কঠোর জাতীয় নির্দেশনা জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর বর্জ্য ডাম্পিং ও রিসাইক্লিং পদ্ধতিকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের জন্য এই বিশেষ নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যত্রতত্র বা লোকালয়ের কাছাকাছি উন্মুক্ত ডাম্পিং আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আবর্জনা উৎসমুখেই পৃথকীকরণ (সোর্স সেগ্রিগেশন)—অর্থাৎ পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থা চালুর জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে বিশেষ প্রচারণা ও সংগ্রাহক টিম গঠন করতে হবে। সংগৃহীত পচনশীল বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও উচ্চমানের জৈব সার তৈরির জন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারি (পিপিপি) মডেলে প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যান্ট স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এক পর্যালোচনা সভায় জানান, মেডিকেল বর্জ্য এবং ক্ষতিকর শিল্প বর্জ্যকে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্যের সাথে মেশানো যাবে না। বিশেষ করে হাসপাতালের সংক্রামক বর্জ্য ইনসিনারেটরের মাধ্যমে শতভাগ জীবাণুমুক্ত করে ধ্বংস করার বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনগুলোকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশবিদরা মন্ত্রণালয়ের এই সময়োপযোগী নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের খাল-বিল ও ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে প্রতিটি শহরে সার্কুলার ইকোনমি বা চক্রাকার বর্জ্য অর্থনীতির ধারণা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া আবশ্যক।




