ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্র ডেস্ক): দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করতে এবার শরিয়াহভিত্তিক বিশেষ পেনশন স্কিম চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইনের সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আগস্টে দেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর পর থেকেই একটি বড় অংশের নাগরিক এবং ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ ও লভ্যাংশ ব্যবস্থার দাবি জানানো হচ্ছিল। সাধারণ প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের আওতায় জমাকৃত অর্থ বর্তমানে মূলত সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও নির্ধারিত আর্থিক ইন্সট্রুমেন্টে বিনিয়োগ করা হয়, যা নির্দিষ্ট সুদের ওপর নির্ভরশীল। নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনীতে শরিয়াহ স্কিমে অংশগ্রহণকারীদের জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণভাবে সুকমুক্ত ইসলামিক বন্ড (সুকুক), অবকাঠামোগত শরীয়াহ ফান্ড এবং লাভ-ক্ষতি অংশীদারি ভিত্তিতে সরকারি উৎপাদনশীল মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন স্কিমটির নাম ‘শরিয়াহ সুরক্ষা’ বা অনুরূপ কোনো স্বতন্ত্র পরিচিতি পেতে পারে। এই স্কিমের যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি করতে দেশের প্রখ্যাত ইসলামিক অর্থনীতিবিদ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র ‘শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বোর্ড বিনিয়োগের ক্ষেত্র, শরীয়াহ নীতিমালা অনুসরণ এবং লভ্যাংশ বণ্টন পদ্ধতি নিয়মিত অডিট করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের অংশীদারি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছাড়িয়েছে। ফলে সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহ ফ্রেমওয়ার্ক যুক্ত হলে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ নাগরিক, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে কর্মরত প্রবাসী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এটি জাতীয় সঞ্চয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর দ্রুত বিধিমালা জারির মাধ্যমে স্কিমটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে।



