বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন স্বস্তির ইতিহাস রচিত হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশের সরকারি খাদ্য গুদাম ও আধুনিক সাইলো সমূহে খাদ্যশস্যের (চাল ও গম) মোট কার্যকর মজুদ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টনে, যা বিগত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি আশুগঞ্জ, সান্তাহার ও পটুয়াখালীতে সদ্য নির্মিত আধুনিক সোলার সাইলোতে কোনো রাসায়নিক বিষ ছাড়াই বায়ু নিরোধক পদ্ধতিতে চাল সংরক্ষণ করায় পুষ্টিমান সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ থাকছে।
খাদ্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় খোলা বাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি (ওএমএস), খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (এফএফপি) এবং দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণে সরকারের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। ফলে চালের বাজারে কোনো অসাধু মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারবে না।
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, শক্তিশালী খাদ্য মজুদ অভ্যন্তরীণ খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বহুলাংশে সুসংহত করে।
