নিউইয়র্ক ও ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্র ডেস্ক): যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান, জাতীয় স্বার্থরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক রূপান্তরের বলিষ্ঠ বার্তা তুলে ধরবে ঢাকা। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছে এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন বৈঠকে অংশগ্রহণ শুরু করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি প্রধান স্তম্ভ—বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ ও অনুদান নিশ্চিতকরণ, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ তৈরি এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য শুল্ক সুরক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সাধারণ পরিষদের মূল বিতর্ক পর্বে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ভাষণে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের অঙ্গীকার বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাথে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্য অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক জটিলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শ্লথগতির মাঝে ৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বহুপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের আস্থা পুনরুজ্জীবিত করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য।



