দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে ১০ জাতির জোট আসিয়ানের (ASEAN) 'সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার' মর্যাদা অর্জনে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অগ্রাধিকার চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর বার্ষিক সম্মিলিত জিডিপি ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে বাংলাদেশি ওষুধ, পাটজাত পণ্য, সিরামিক ও প্লাস্টিক সামগ্রী রফতানির অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জানান, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের ফলে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশকে তাদের উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্য ও নেপাল-ভুটানে পণ্য সরবরাহের প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।
আসিয়ান কর্মকর্তারা বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিক বন্দর অবকাঠামোর ভূয়সী প্রশংসা করে যৌথ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।


