সমসাময়িক বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকার নবায়নকৃত সক্রিয়তা ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বিশ্ব সংস্থাটিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তুলতে সংলাপ, বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতার নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘ অবদানের কথা স্মরণ করে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা অভিযান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।
মানবিক ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে; এখন তাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে স্বল্পোন্নত এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজশর্তে অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ সনদের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/353035)।





