ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্র ডেস্ক): বর্ষা-পরবর্তী মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং গ্রামীণ হাট-বাজার এলাকায় একযোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি) সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর বিস্তার কেবল বড় বিভাগীয় শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এবার কেবল কীটনাশক স্প্রে করার গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ‘সমন্বিত ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট’ বা সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচালিত এই কর্মসূচিতে মেডিকেল শিক্ষার্থী, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী ও তরুণদের যুক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমে থাকা পানি ও লার্ভা শনাক্তকরণের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর সঠিক চিকিৎসা ও মৃত্যুহার কমাতে প্রাথমিক পর্যায়ে এনএস-১ (NS-1) অ্যান্টিজেন টেস্টের প্রাপ্যতা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত বিনামূল্যে নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি দপ্তরের পরিত্যক্ত আঙ্গিনা ও ছাদবাগানগুলোতে নিয়মিত ড্রোন ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মনিটরিং করতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড কর্নার স্থাপন এবং আইভি স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ মজুত রয়েছে। নাগরিকরা যাতে জ্বর বা শরীরে ব্যথামাত্রই রক্ত পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক গ্রহণ না করেন, সেজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল মেসেজে সার্বক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে।


