মৌসুমী ডেঙ্গুর ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবেলায় সনাতন ধোঁয়াযুক্ত ফগিংয়ের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক বৈজ্ঞানিক ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট বা জৈব লার্ভিসাইড প্রয়োগের সুফল পেতে শুরু করেছে রাজধানীসহ দেশের প্রধান নগরগুলো। আন্তর্জাতিক কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের সুপারিশক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনগুলো এবার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক বালাইনাশক 'ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস' (বিটিআই)।
কীটতত্ত্ববিদদের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত রাসায়নিক কীটনাশকে এডিস মশা দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করলেও বিটিআই ব্যাকটেরিয়া কেবল মশার লার্ভার পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে টক্সিন তৈরি করে এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী বা মানুষের কোনো ক্ষতি না করেই মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লার্ভা ধ্বংস করে দেয়।
বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট, ছাদবাগান এবং উন্মুক্ত ড্রেনগুলোতে কিউআর কোড ভিত্তিক ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত বিটিআই প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিটি স্প্রেয়ার টিমের জিপিএস ট্র্যাকিং থাকায় কোনো এলাকা বাদ পড়ার সুযোগ থাকছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জানিয়েছে, গত এক মাসের ধারাবাহিক জৈব লার্ভিসাইডিংয়ের ফলে শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে লার্ভার ঘনত্ব সূচক বা ব্রেটো ইনডেক্স নিরাপদ সীমার নিচে নেমে এসেছে, যার প্রত্যক্ষ ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হ্রাসে।

