বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা সহায়ক বস্ত্রশিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগের সুফল দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে স্থানীয়ভাবে ওভেন কাপড় উৎপাদন, আধুনিক সুতা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশবান্ধব ডাইং কারখানা স্থাপনে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন শিল্প বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
এতদিন নিট পোশাকের ক্ষেত্রে স্থানীয় সুতা ও কাপড়ের সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ হলেও ওভেন পোশাকের জন্য সিংহভাগ ফেব্রিকস চীন ও ভারত থেকে আমদানি করতে হতো। এর ফলে জাহাজজটের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পোশাক পৌঁছাতে প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ দিন সময় লাগত।
নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের নতুন আধুনিক প্ল্যান্টগুলো উৎপাদনে আসায় ওভেন পোশাকের লিড টাইম কমে ৩০ থেকে ৩৫ দিনে নেমে এসেছে। একই সাথে স্থানীয় জিরো ডিসচার্জ এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করা সহজ হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী হওয়ায় প্রতিটি তৈরি পোশাক রফতানির বিপরীতে দেশে ভ্যালু অ্যাডিশন বা মূল্য সংযোজনের হার ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় সরাসরি অবদান রাখছে।





