**ফ্রাঙ্কফুর্ট:** বিশ্বজুড়ে পণ্যমূল্য ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণে আসার প্রেক্ষাপটে প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সুদের হার পুনর্বিবেচনা ও সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) ও মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক নীতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় পর সুদের হার কমানোর চক্র শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য বিনিয়োগে নতুন গতি আসার পূর্বাভাস মিলছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) যৌথ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস পাওয়ায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। এর ফলে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য রপ্তানি চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক শিপিং ফ্রেইট ব্যয় ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর গতি যদি অতিরিক্ত দ্রুত হয়, তবে তা মুদ্রা বাজারের অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে; আবার অতিরিক্ত বিলম্বিত হলে তা উৎপাদন খাতের পুনরুদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করবে।
সার্বিকভাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনে তুলনামূলক ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে ধারণা করছেন অর্থবাজার বিশ্লেষকরা, যা উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ কিছুটা লাঘব করবে।




