একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো তার আর্থিক খাতের সুস্থতা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা। সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা এবং রেমিট্যান্সে গতি ফিরলেও অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণ এবং করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এখনও আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে শুধু নীতিগত নির্দেশিকা জারি করলেই চলবে না, তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনাদায়ি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের তারল্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের পরিবর্তে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি বাড়ানো প্রয়োজন। ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ আমানতকারীদের অবিচল আস্থা ধরে রাখতে হলে প্রতিটি ঋণের ডাউন পেমেন্ট ও বন্ধকী সম্পদের যথার্থ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা প্রত্যাশা করি, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নিরপেক্ষ পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে। আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে জাতীয় বিনিয়োগ যেমন বাড়বে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিও নিরাপদ ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।



