শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সম্পাদকীয়: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার বাজেট ও আন্তর্জাতিক জার্নালে স্বীকৃতির রোডম্যাপ

কেবলমাত্র সনাতন ডিগ্রি বিতরণের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্ঞান সৃষ্টি ও শিল্প সংযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে টেকসই বরাদ্দ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

দেশপত্র ডেস্ক

দেশপত্র ডেস্ক

বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ

প্রকাশ: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ পরিমার্জন: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্পাদকীয়: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার বাজেট ও আন্তর্জাতিক জার্নালে স্বীকৃতির রোডম্যাপপ্রতীকী ছবি
সম্পাদকীয়: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার বাজেট ও আন্তর্জাতিক জার্নালে স্বীকৃতির রোডম্যাপছবি: Deshpotro.com ডেস্ক
WhatsApp

একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি হলো তার বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট মৌলিক গবেষণা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক সমাদৃত পিয়ার-রিভিউড জার্নালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। কিন্তু এই সাফল্যগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একক গবেষকের ব্যক্তিগত পরিশ্রম ও সীমিত বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল, যা প্রাতিষ্ঠানিক টেকসই ভিত্তির অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বার্ষিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় শিক্ষা বাজেটের মধ্যে উচ্চশিক্ষার মৌলিক গবেষণায় বরাদ্দকৃত অর্থের হার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এখনও বেশ কম। অধিকাংশ গবেষণাগারে আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি, রাসায়নিক রি-এজেন্টের আমদানিতে শুল্ক জটিলতা এবং পিএইচডি ফেলোদের মাসিক বৃত্তির অপ্রতুলতা মেধাবী তরুণদের বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য করছে।

এই ব্রেন ড্রেন বা মেধা পাচার রোধ করতে হলে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে 'রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেল' গঠন করে সরাসরি জাতীয় বাজেটের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ দিতে হবে। একই সাথে দেশীয় ওষুধ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও কৃষিভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথ গবেষণার আইনি পথ উন্মুক্ত করতে হবে যাতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) তহবিল গবেষণাগারে কাজে লাগানো যায়।

আমরা আশা করব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন আসন্ন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। মনে রাখতে হবে, গবেষণায় বিনিয়োগ কোনো অনুদান নয়, বরং এটি আগামী প্রজন্মের মেধাভিত্তিক অর্থনীতির সবচেয়ে লাভজনক বীজ বপন।

এই সংবাদটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

একটি বা একাধিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারেন

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও সংবাদ

সম্পাদকীয়: ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই

খেলাপি ঋণ হ্রাস, ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিকে আপসহীন হতে হবে।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬দেশপত্র ডেস্ক

সম্পাদকীয়: জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত সময়োপযোগী

ঋণ নয়, ক্ষতির মুখে থাকা দেশগুলোর প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে বৈশ্বিক ফোরামে ঐক্যবদ্ধ দাবি তুলতে হবে

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬দেশপত্র ডেস্ক
ঢাকা

ডেঙ্গু আর মৌসুমি সংকট নয়: প্রতিরোধ ব্যবস্থাই কি বদলাতে হবে?

ডেঙ্গুকে শুধু বর্ষাকালের সমস্যা হিসেবে দেখার সময় শেষ। বছরব্যাপী নজরদারি, উৎস নিয়ন্ত্রণ, উন্নত নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক অংশগ্রহণভিত্তিক নতুন প্রতিরোধ কৌশল এখন জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬মোঃ হুমায়ুন কবির