একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি হলো তার বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট মৌলিক গবেষণা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক সমাদৃত পিয়ার-রিভিউড জার্নালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। কিন্তু এই সাফল্যগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একক গবেষকের ব্যক্তিগত পরিশ্রম ও সীমিত বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল, যা প্রাতিষ্ঠানিক টেকসই ভিত্তির অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বার্ষিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় শিক্ষা বাজেটের মধ্যে উচ্চশিক্ষার মৌলিক গবেষণায় বরাদ্দকৃত অর্থের হার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এখনও বেশ কম। অধিকাংশ গবেষণাগারে আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি, রাসায়নিক রি-এজেন্টের আমদানিতে শুল্ক জটিলতা এবং পিএইচডি ফেলোদের মাসিক বৃত্তির অপ্রতুলতা মেধাবী তরুণদের বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য করছে।
এই ব্রেন ড্রেন বা মেধা পাচার রোধ করতে হলে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে 'রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেল' গঠন করে সরাসরি জাতীয় বাজেটের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ দিতে হবে। একই সাথে দেশীয় ওষুধ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও কৃষিভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথ গবেষণার আইনি পথ উন্মুক্ত করতে হবে যাতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) তহবিল গবেষণাগারে কাজে লাগানো যায়।
আমরা আশা করব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন আসন্ন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। মনে রাখতে হবে, গবেষণায় বিনিয়োগ কোনো অনুদান নয়, বরং এটি আগামী প্রজন্মের মেধাভিত্তিক অর্থনীতির সবচেয়ে লাভজনক বীজ বপন।


