বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে শীতকালীন আগাম সবজির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মৌসুমে যশোর সদর, বগুড়ার শেরপুর ও রংপুরের মিঠাপুকুর অঞ্চলে আধুনিক প্লাস্টিক মালচিং প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা ও উচ্চফলনশীল টমেটো চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সরেজমিন উইংয়ের তথ্যমতে, সিলভার ও কালো রঙের দ্বিমুখী মালচিং পেপার ব্যবহারের ফলে মাটির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ অক্ষুণ্ণ থাকে। এতে প্রথাগত সেচের তুলনায় পানির অপচয় প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়। একই সাথে আগাছা জন্মাতে না পারায় মাটির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরাসরি সবজি গাছের শিকড়ে পৌঁছায়, যার ফলে স্বাভাবিক সময়ের অন্তত ১৫ দিন আগেই ফসল তোলার উপযোগী হচ্ছে।
যশোরের উপশহর ব্লকের অভিজ্ঞ কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তিন বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে আগাম ফুলকপি চাষ করে তিনি সাধারণ চাষের চেয়ে দেড়গুণ বেশি চারা সংরক্ষণ করতে পেরেছেন। বাজারে আগাম সবজির চড়া দাম মেলায় প্রতি বিঘায় খরচ বাদে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা বাড়তি লাভের আশা করছেন তিনি।
মাটি ও পরিবেশবান্ধব অবক্ষয়যোগ্য (বায়োডিগ্রেডেবল) মালচিং শিট আমদানিতে শুল্ক রেয়াত দেওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের মাঝে এই আধুনিক কৃষি কৌশলের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়ছে। ডিএই কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে শীতকালীন শাকসবজির অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির পথও সুগম হবে।




