**সুনামগঞ্জ:** দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হাওরাঞ্চলে আগাম পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি এড়াতে স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চফলনশীল বোরো ধানের চাষ সম্প্রসারণে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। একই সঙ্গে কর্তন পরবর্তী শস্যের ক্ষতি কমাতে হাওর সংলগ্ন উপজেলাগুলোতে সৌরশক্তি চালিত মিনি সাইলো ও ড্রায়ারের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, হাওরের বোরো ফসল প্রতি বছরই এপ্রিলের শেষের দিকে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের মুখে পড়ে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্রি উদ্ভাবিত এমন কিছু জাত হাওর এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ জাতের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন আগে পেকে যায়। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার আগেই কৃষকরা তাদের ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারবেন।
তাছাড়া হাওরের কৃষকদের জন্য আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিনের ব্যবহার সহজলভ্য করা হয়েছে। নতুন স্থাপিত শস্য সংরক্ষণাগারগুলোতে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকায় কাঁচা ধান দ্রুত শুকিয়ে গুদামজাত করা সম্ভব হবে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে ধান বিক্রির বাধ্যবাধকতা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেবে।
হাওরের কৃষক প্রতিনিধিরা এই সমন্বিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে হাওরাঞ্চলের উদ্বৃত্ত ফসল দেশের সামগ্রিক খাদ্য সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করবে।



