নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধন সেবায় উল্লেখযোগ্য গতি এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জমা পড়া মোট ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে তথ্যগত অসংগতি ও অযৌক্তিক দাবির কারণে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন বাতিল হয়েছে এবং বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা হওয়া সব সংশোধন আবেদন ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় এবং একই ব্যক্তির একাধিক ক্যাটাগরিতে পুনঃআবেদনের প্রবণতার কারণে কিছু আবেদন চলমান প্রক্রিয়ায় থাকে। সবচেয়ে জটিল হিসেবে বিবেচিত ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে বর্তমানে মোট ৬৯ হাজার ২৫২টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালের ৬৮ হাজার ২৬৯টি এবং ২০২৫ সালের ৯৮৩টি আবেদন অন্তর্ভুক্ত।
অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অপেক্ষমাণ ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনের মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৬১৫টি এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি, সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি এবং বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ধাপ কমিয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সংশোধনের চাপ কমাতে নিবন্ধনের শুরুতেই নির্ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্তি এবং প্রবাসীদের আবেদনের ক্ষেত্রে স্থানীয় যাচাই প্রক্রিয়া আরও নিবিড় করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জন্মতারিখ সংশোধনে জালিয়াতি রোধে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে কমিশন। অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাসনদের (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে অধীনস্থ প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি করে আবেদন দৈবচয়ন পদ্ধতিতে অডিট করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/352910)।





