জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ এখন কেবল সুরক্ষার আবেদনকারী নয়, বরং সবুজ রূপান্তরের অগ্রদূত হওয়ার মতো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করেছে। দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে পরিবেশবান্ধব ইউএসজিবিসি লিড (LEED) সনদের বৈশ্বিক শীর্ষস্থান আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে পরিবেশ রক্ষা এবং বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। এই একই চেতনাকে এখন সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে সঞ্চারিত করতে হবে।
দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ যখন ব্যয়বহুল আমদানিকৃত তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) ও কয়লার ওপর নির্ভরশীল, তখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো প্রতিদিনের অফুরন্ত সূর্যালোক এবং বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ হাঁস-মুরগির খামার ও ডেইরি ফার্ম থেকে উৎপন্ন বর্জ্যকে আধুনিক বায়ো-সিএনজি প্ল্যান্টে প্রক্রিয়াজাত করে গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস ও উচ্চমানের জৈব সার তৈরি করা সম্ভব।
এই খাতে প্রয়োজন তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্ভাবনী স্টার্টআপের অংশগ্রহণ। সরকার যদি গ্রিন এনার্জি স্টার্টআপগুলোর জন্য প্রাথমিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এবং ব্যাংক ঋণে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করে, তবে আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৫০ হাজার নতুন 'গ্রিন জব' তৈরি হবে।
তরুণদের মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির শত শত কোটি ডলারের সাশ্রয় দেশের ভেতরেই নতুন সম্পদ সৃষ্টি করবে। সবুজ জ্বালানি শুধু পরিবেশের দাবি নয়, এটি আগামী দিনের অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

