ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্র ডেস্ক): অধস্তন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারাঙ্গনে মামলাজট নিরসন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সামগ্রিক সংস্কার কার্যক্রম গতিশীল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পরামর্শ ও সুপারিশ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ আদালতে যোগ্য বিচারিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধির কঠোর মনিটরিং শুরু হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিচারিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। সম্প্রতি সারা দেশের জেলা আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মস্থল সমন্বয় এবং বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের পুরনো দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির আওতায় আনতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ সমন্বয় সভা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইন ও বিচার বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের আওতায় আদালতগুলোর অনলাইন কার্যতালিকা ও সমন জারির আধুনিকায়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং নথি গায়েব বা কালক্ষেপণের চিরাচরিত অভিযোগ থেকে বিচার প্রশাসন মুক্ত থাকবে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া শুধু নতুন আইন প্রণয়ন করে ন্যায়বিচারের মান উন্নত করা অসম্ভব। সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবকত্বে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। জেলা বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক সহযোগিতায় এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।




