নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রণালি, আকার ও নির্ধারিত কর্মপরিধি চূড়ান্ত করতে একাধিক বিকল্প কাঠামোর প্রস্তাব সামনে এনেছেন দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির অষ্টম বৈঠকে আমন্ত্রিত ৪৪ জন সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক লিখিত ও মৌখিক সুপারিশ তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আলোচনার সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষজ্ঞরা মত দেন যে, যদি সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন করা হয় এবং নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হলেও উচ্চকক্ষ অকার্যকর বা বিলুপ্ত না হয়, তবে একটি নতুন ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করে কিংবা উচ্চকক্ষের কাঠামোর ভেতর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি আরেকটি বিকল্প প্রস্তাবে সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের স্পিকারকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার সম্ভাব্যতাও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এখনো সব পক্ষের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। সংগৃহীত সব বিকল্প প্রস্তাব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপিত হতে পারে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অষ্টম বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সুরক্ষা, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা এবং বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের ক্ষেত্রে আস্থা ভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি—এই চারটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য সব সংসদীয় কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের দলীয় হুইপের বাইরে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোটদানের অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব উঠে আসে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন, বিচারক নিয়োগ আইন প্রণয়ন এবং ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের সদস্যদের মনোনয়নের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য সাকিলা ফারজানা অংশ নেন। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/353151)।



