নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো ব্রহ্মপুত্রের বালুচর এতদিন যেখানে কেবল ঘাস আর ধু-ধু বালুর প্রতীক ছিল, সেখানেই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ফলেছে মিষ্টি লাল ড্রাগন ফল। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলী মো. আল-আমিন চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে গড়ে তুলেছেন 'স্বপ্নচর ড্রাগন এগ্রো পার্ক'।
দেশপত্রের বিশেষ ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়, বালুময় মাটিকে উর্বর করতে তিনি ব্যবহার করেছেন কেঁচো সার ও পচানো গোবর। পানির অপচয় রোধে পুরো তিন একর জমিতে বসিয়েছেন সৌরচালিত ড্রিপ ইরিগেশন ব্যবস্থা, যা ফোঁটায় ফোঁটায় গাছের গোড়ায় পানি ও তরল খাদ্য পৌঁছে দেয়।
আল-আমিন জানান, চলতি মৌসুমে তার বাগান থেকে প্রায় আট টন ড্রাগন ফল সংগৃহীত হয়েছে, যা রংপুর ও ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তার এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে চিলমারী ও রৌমারীর অন্তত ২০ জন বেকার যুবক চরে ড্রাগন ও মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চরের বালুমাটিকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্যে সম্পদে রূপান্তরের এই ভিডিও ডকুমেন্টারি দেশের লাখো শিক্ষিত তরুণকে আধুনিক কৃষিতে ক্যারিয়ার গড়তে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
