ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্র ডেস্ক): দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহন ও যাত্রীসেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি নৌযান ইজারা বা চার্টার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধে যুগোপযোগী পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যৌথভাবে এই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় জলযানগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা, চার্টারিং প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, অতীতে স্পষ্ট ও আধুনিক গাইডলাইন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে জলযান চার্টার দেওয়া হতো, যা পরবর্তীতে বছরের পর বছর নবায়ন না করে কিংবা বকেয়া পরিশোধ না করে ব্যবহারের অভিযোগ উঠত। নতুন নীতিমালায় প্রতিটি জলযানের ক্যাটাগরি, ইঞ্জিন সক্ষমতা, ধারণক্ষমতা এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর ভিত্তি করে একটি স্বয়ংক্রিয় বেঞ্চমার্ক রেট নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি চার্টার চুক্তি সেন্ট্রাল ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে জাহাজ ট্র্যাকিং ও ভাড়া পরিশোধের নিয়মিত আপডেট পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বিআইডব্লিউটিএর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ নৌপথ সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম। কিন্তু রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতার কারণে নৌ অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছিল। আধুনিক চার্টারিং নীতিমালার অধীনে বাধ্যতামূলক ব্যাংক গ্যারান্টি, নিয়মিত টেকনিক্যাল সার্ভে এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত ছাড়া কোনো নৌযান লিজ বা চার্টারিং অনুমোদন দেওয়া হবে না।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, স্বচ্ছ চার্টার নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে একদিকে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে, অন্যদিকে নদীপথে কার্গো ও কনটেইনার পরিবহনে দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। আগামী মাসেই নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া স্টেকহোল্ডারদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।





